SIP-এর মাধ্যমে ১০ বছরে ৫০ লক্ষ টাকা অর্জন করুন, জানুন কিভাবে

Whatsapp-Group-Link
krishak bandhu Join Whatsapp channel

এই ফর্মুলা অনুযায়ী বিনিয়োগ করে, আপনি ১০ বছরে ৫০ লক্ষ টাকা অর্জন করতে পারবেন। সিস্টেমেটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান (SIP) বর্তমানে বিনিয়োগের একটি জনপ্রিয় মাধ্যম হয়ে উঠেছে।

যারা দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের মাধ্যমে বড় পরিমাণ অর্থ অর্জন করতে চান, তাদের জন্য ১৫x১০x১০ ফর্মুলাটি বিশেষ কার্যকরী। আসুন, বিস্তারিতভাবে জেনে নিই এই ফর্মুলা কী এবং এটি কীভাবে কাজে আসে।

১৫x১০x১০ ফর্মুলা কী?

১৫x১০x১০ ফর্মুলা মূলত তিনটি প্রধান বিষয়ের উপর ভিত্তি করে গঠিত:

  1. ১৫% রিটার্ন (রিটার্ন রেট): বিনিয়োগের উপর বার্ষিক ১৫% রিটার্ন আশা করা।
  2. ১০ বছরের মেয়াদ (সময়কাল): নিয়মিতভাবে ১০ বছর বিনিয়োগ করা।
  3. ১০% বিনিয়োগ বৃদ্ধি (ইনভেস্টমেন্ট অ্যামাউন্ট বৃদ্ধি): প্রতি বছর ১০% করে বিনিয়োগের পরিমাণ বৃদ্ধি করা।

এই ফর্মুলা অনুযায়ী বিনিয়োগ করে, আপনি ১০ বছরে ৫০ লক্ষ টাকা অর্জন করতে পারবেন।

আরো পড়ুন: মাত্র ১,১২৬ টাকা জমা করে পোস্ট অফিসের RPLI স্কিমে পাবেন ১৩ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা!

কীভাবে কাজ করে এই ফর্মুলা?

রিটার্ন রেট: ১৫%

বাজারে SIP-এর মাধ্যমে বিনিয়োগ করলে বার্ষিক গড়ে ১২-১৫% রিটার্ন পাওয়া সম্ভব। সঠিক মিউচুয়াল ফান্ড বেছে নিয়ে নিয়মিত বিনিয়োগ করলে এই রিটার্ন রেট অর্জন করা সম্ভব।

সময়কাল: ১০ বছর

SIP-এ দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ সবসময়ই বেশি লাভজনক হয়। কম্পাউন্ডিং ইফেক্টের কারণে সময়ের সাথে সাথে বিনিয়োগের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। ১০ বছরের মেয়াদে নিয়মিত বিনিয়োগ করে বড় অংকের অর্থ অর্জন করা সম্ভব।

বিনিয়োগ বৃদ্ধি: ১০%

প্রতি বছর ১০% করে বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়ানো হলে কম্পাউন্ডিংয়ের প্রভাব আরও বেশি হবে। উদাহরণস্বরূপ, প্রথম বছরে ১০,০০০ টাকা বিনিয়োগ করলে, পরের বছরে সেটি ১১,০০০ টাকা করে বৃদ্ধি করা হবে।

আরো পড়ুন: Flexibench দিয়ে আয় করুন সহজেই: দৈনিক ২৫০০ টাকা উপার্জনের টিপস!

১৫x১০x১০ ফর্মুলা অনুযায়ী বিনিয়োগের উদাহরণ প্রথম বছর

  • মাসিক বিনিয়োগ: ১০,০০০ টাকা
  • বার্ষিক বিনিয়োগ: ১,২০,০০০ টাকা

দ্বিতীয় বছর

  • মাসিক বিনিয়োগ: ১১,০০০ টাকা
  • বার্ষিক বিনিয়োগ: ১,৩২,০০০ টাকা

তৃতীয় বছর

  • মাসিক বিনিয়োগ: ১২,১০০ টাকা
  • বার্ষিক বিনিয়োগ: ১,৪৫,২০০ টাকা

এইভাবে, প্রতি বছর ১০% করে বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়ালে এবং বার্ষিক ১৫% রিটার্ন পেলে ১০ বছর শেষে আপনার মোট বিনিয়োগের পরিমাণ হবে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা।

SIP-এর সুবিধা নিয়মিত বিনিয়োগ

SIP-এর মাধ্যমে নিয়মিতভাবে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করা যায়। এটি বিনিয়োগকারীদের জন্য শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে বিনিয়োগ করার সুযোগ দেয়।

কম্পাউন্ডিংয়ের প্রভাব

দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কম্পাউন্ডিংয়ের প্রভাব খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি বিনিয়োগের উপর আয় বৃদ্ধি করে।

আরো পড়ুন: পাড়ায় পাড়ায় নতুন লক্ষ্মীর ভান্ডার! এই কাগজ নিয়ে হাজির না হলে পাবেন না সুবিধা!

রিস্ক ম্যানেজমেন্ট

SIP-এর মাধ্যমে ছোট পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করে বড় অংকের অর্থ অর্জন করা সম্ভব। এটি বাজারের ওঠাপড়ার সময় বিনিয়োগকারীদের রিস্ক কমাতে সাহায্য করে।

সঠিক মিউচুয়াল ফান্ড নির্বাচন

১৫x১০x১০ ফর্মুলা অনুযায়ী বিনিয়োগ করতে হলে সঠিক মিউচুয়াল ফান্ড নির্বাচন করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাজারের বিভিন্ন ফান্ডের রিটার্ন রেট, রিস্ক প্রোফাইল, এবং ম্যানেজমেন্ট ফি বিচার করে সেরা ফান্ড বেছে নিতে হবে।

লার্জ ক্যাপ ফান্ড

বড় ক্যাপ ফান্ডগুলি সাধারণত বড় সংস্থাগুলিতে বিনিয়োগ করে। এগুলি রিস্ক কম এবং স্থিতিশীল রিটার্ন দেয়।

মিড ক্যাপ ফান্ড

মিড ক্যাপ ফান্ডগুলি মাঝারি আকারের সংস্থাগুলিতে বিনিয়োগ করে। এগুলি রিস্ক বেশি হলেও দীর্ঘমেয়াদে ভালো রিটার্ন দেয়।

স্মল ক্যাপ ফান্ড

স্মল ক্যাপ ফান্ডগুলি ছোট সংস্থাগুলিতে বিনিয়োগ করে। এগুলি উচ্চ রিস্ক এবং উচ্চ রিটার্ন দেয়।

উপসংহার

১৫x১০x১০ ফর্মুলা একটি সুপরিকল্পিত এবং কার্যকরী উপায় ১০ বছরে ৫০ লক্ষ টাকা অর্জনের জন্য।

সঠিক মিউচুয়াল ফান্ড বেছে নিয়ে নিয়মিত বিনিয়োগ করলে এবং প্রতি বছর ১০% করে বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়ালে আপনি এই লক্ষ্য সহজেই অর্জন করতে পারবেন।

দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ধৈর্য্য এবং পরিকল্পনার গুরুত্ব অপরিসীম। তাই, আজই শুরু করুন এবং ভবিষ্যতের জন্য একটি মজবুত অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়ে তুলুন।

এই প্রতিবেদনটি আপনাকে SIP এবং ১৫x১০x১০ ফর্মুলা সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেবে এবং আপনি কীভাবে এটি ব্যবহার করে আপনার বিনিয়োগের লক্ষ্য অর্জন করতে পারেন, সে বিষয়ে সাহায্য করবে। শুভকামনা রইলো আপনার বিনিয়োগ যাত্রার জন্য!

Leave a Comment